বাংলাদেশে কবে ফিরবেন জানিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা

 


বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানালেন, তিনি ভয় পেয়ে দেশ ছাড়েননি। দেশ ছেড়েছিলেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে। তবে তিনি আবার দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার এবং তাঁর দেশে ফেরা এক সুতোয় বাঁধা বলেই জানালেন হাসিনা (Sheikh Hasina)।



জুলাই আন্দোলনের সময়েই মুজিবের ধানমন্ডির বাড়িটির একাংশ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে। তার পর গত বছর অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদিকে খুনের ঘটনায় নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয় বাংলাদেশ। সেই সময়েও মুজিবের ৩২, ধানমন্ডির বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। তার নেপথ্যে জামাতের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ। তা নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, "আমার সোনার দেশে হালে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা পারলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও মুছে ফেলতে চায়। আমাদের ভবিষ্যৎকে সুষ্ঠু ও সুনিশ্চিত করতে যাঁরা এত বলিদান দিলেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি অবমাননা প্রদর্শন করা, তৎসহ মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা, আমার চোখে অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ।"



কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার এই চেষ্টা ব্যর্থ হবে জানিয়ে হাসিনা বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার কোনও একটি স্থানে বা কোনও বিশেষ বস্তুতে সীমিত নয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিয়েছে গণতন্ত্র, সাম্য, ধর্মনিরপেক্ষতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার ধারণা। সেসবের নির্যাস কি এত সহজে ধুয়েমুছে সাফ করে ফেলা যাবে? বাংলাদেশের মাটি থেকে একটি ইমারত বা স্মৃতিসৌধকে মুছে ফেলা সহজ, কিন্তু বাংলাদেশের আত্মায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষয় হয়ে থাকবে।"


২০২৪ সালের আগস্টে বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়েছিলেন হাসিনা। তার পর থেকে তিনি ভারতেই রয়েছেন। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি কিন্তু ভয় পেয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে আসিনি। আমার জন্য লক্ষ লক্ষ নিরাপরাধ মানুষ যাতে বিপদে না পড়ে, এই শঙ্কা থেকেই বাধ্য হয়েছিলাম দেশ ছাড়তে।" তবে তিনি ফিরবেন এবং তা নির্ভর করছে গণতন্ত্রের পূর্ণ পুনরুদ্ধার, আওয়ামি লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং অবাধ-সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন পরিচালনার উপর। হাসিনার কথায়, "বাংলাদেশে বৈধ সরকার স্থাপিত হলে এবং বিচারবিভাগ তার কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ফিরে পেলে, আমি অবশ্যই চাইব বাংলাদেশে ফিরে যেতে। জীবনের সবটুকু তো বাংলাদেশকেই দিয়েছি আমি। বাংলাদেশেরই সেবা করেছি।"


ভারত সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেছেন হাসিনা। তিনি বলেন, "ভারতের একটি অজ্ঞাত স্থান থেকে এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। চরম বিপদের সময় ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, যে উষ্ণ আতিথেয়তা আমাকে দিয়েছে, সেজন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।"

Countdown Timer
00:01

Comments

Popular posts from this blog

উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

২০২৬ সালে উপজেলা ইউনিয়ন নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ

অবশেষে রাষ্ট্রপতির চূড়ান্ত নাম ঘোষণা